Monday, March 7, 2011

মোহগ্রস্থ কেটে গেলে ফলবতিগাছে রহস্যঝরে

ঘ্রাণে-অঘ্রাণে
আমায় ডাকে প্রসারিত ওইহাত
প্রভাবিত জরাগ্রস্থ, ঘ্রাণে-অঘ্রাণে
স্মৃতিঘাত আঁশ তুলে-
ধ্রুবক উড়ছে ফাঁকা বলয়ে

কৈফিয়ত
সময়ের ভাগাভাগি নিশিচরম, পাঠ চুকিয়ে
অনুভব, রোদ ছিঁড়ে আত্মার যুগলচোখ, দেহবিবর
মর্মরে হাওয়ায় আবদ্ধ... অন্যচোখে নিজেকে দেখা
ঠাণ্ডায় জমে যাওয়া শীতের রাতে... অপেক্ষা!
যেন দীর্ঘ সময়ের মাতাল করাত...

ছায়াফুল
হিসেবের ভেতর-বাহির আপন শ্বাসকথন
রচয়িতার যোগাবেগ কামনার উষ্ণ মুখমণ্ডল
আপনে-গোপনে কোটরগত ছায়াফুল
বিনম্র চেষ্টারত করুনাফুল ফুটে বোধের চারদেয়ালে
আপন জিজ্ঞাসায়-
ভাব ধরে রাখা ঝাপ্সা দু’চোখ

দ্বিধা
অবিশ্বাসের দানায় বাঁধে পরবর্তী পূর্ণসুখ... বিফল
অভিনয় কত? এসবে আর দ্বিধা কাটে না
শুকনো গলায় পাথর কি কখনো ভিজে?
মগ্ন হও আধারে-উত্তাপে

আঁকারাত
বুঝাতে কি বা বাকি থাকে বলো, যখন রাত জেগে রক্তাক্ত ঠোঁটে খুঁটে খুঁটে খাও গুপ্তধন আর শরীরের উত্তাপে নড়েচড়ে জানালার কাচ; ভাঙ্গে মাতাল যমুনার পাড়... বন্ধ চোখে আর কত কাচ ভাঙবে... এ অরণ্যে? পুজোর সময় পার হলে স্নান ঘরে কোলাহল বাড়ে। মাতাল দেহখানি এলিয়ে শিথানে-পৈতানে
মায়াবি রাত, তুমিও কি যাদুকর? আর একটু ঘুমুবার দাও

ক্ষত
রাত্রি হাসে আলাপে-প্রলাপে; বাড়ি ভর্তি কোলাহল। আমি রাতের শেষপিঠে পিঠ ঠেকিয়ে মৌমাছির জটলা দেখি। বিভিষিকার চোখে অযাচিত মরণ ফাঁদ

উইক-এণ্ডে সময় নিয়ে আলাপ-প্রলাপ সারবো বলে প্রায়ই কথা তুলে রাখি। রাস্তায় জ্যাম নেই আগের মত, সেলফোনে ফুল সিগন্যাল, জ্বর-সর্দির লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না, তাহলে কিসের এত বাক্-বণিতা... প্রান্তে এসে তরী ডুবে! এই যে কথার বিপরীতে কথা তুলে রেখে কী করে নাক ঢেকে শ্বাস নাও!

বৃষ্টিস্নাত গোধূলিবেলা, পারাপার, আরও যত আলাপ। যা সত্যি তার কদর তিক্ত... ইচ্ছার নৌকা আর ঘাটে ভিড়ে না, কারণ তুপের অনলে যেমন আগের মত রাত মজে না


নিশানা
প্রায় ভাবায়, অভিপ্রায় করে এ যাত্রা ফিরিয়ে দিয়ে যত ভুল করেছি, রাত্রির গায়ে আলো জ্বেলে ভুল করেছি তত বেশি। অনুভবে হাঁটে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। একজন পাঠক হিসাবে তোমায় কি কম পড়া হলো? চাপাশ্বাসে বুকে বুক ঘষে... রাত্রির নিশানা উড়ে শিথানে-পৈতানে। চেয়ে দেখো, স্বপ্নগাছে আর কি যে ঘাম ঝরছে! ...প্রভাত জমিয়ে

কলঘরে কিসের শব্দ...

মোহগ্রস্থ কেটে গেলে ফলবতিগাছে রহস্যঝরে
মোহগ্রস্থ শীতলপাটি হাতের তালুতে আঁধার ঢেলে বদলে নেয়া যত সময়; সবকিছুর ভেতর ব্যস্ত অধিকার হরণ এবেলা। রচয়নে মহানামা কেবল উপহাসে মাথাঠুকে... উপরের সিঁড়িতে আলোর নাচন ... আহা! নিজেকে বদলিয়ে যদি তরতরিয়ে ফুলচাষে তুলে আনা যেত গুটি কয়েক স্বপ্ন এই হিমের শহরে! তবে কি, এমন বিনিদ্ররাতের পাহারাদার থেকে অব্যহতি মিলতো?... জান নেই, কখনও ছিলনা, যার আশির্বাদ, যার প্ররোচনায় এতদূর হেঁটে আসা...

কখনো-সখনো সর্বাপেক্ষা প্রয়োজন ঠেকে তা বিনয়ের সঙ্গে বলতে চেয়ে এমন পরিহাসের সুরে ও-কথা শুনালে... স্বপ্নগাছে পানিপড়া বন্ধ হলেই এমন দু’চারটি কথা শুনতে আর তিতা লাগে না। এতদিনের যত্নে গড়ে উঠা ফলবতি গাছে কেবল রহস্য-ছায়া!